সোমবার, ১৩ Jul ২০২০, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কওমী মাদরাসা খুলতে আলেমদের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে: নদভী পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত করোনায় মুসলমান নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইকামার মেয়াদ তিনমাস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি সৌহার্দ্য বজায় : ঈদ হোক মোক্ষম করোনা ভাইরাস থেকে আমরা আসলে যে শিক্ষা নিতে পারি -বিল গেটস প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসূল সাঃ যে আমল করতেন এবং তাগিত দিতেন ইতিকাফ রব্বে কারীমের সঙ্গে আলাপনের মহান সুযোগ শবে কদর; সাতাশের রাতই কি সেই দিন? ১২মে দেখা যাবে সুরাইয়া তারকা: মিলবে কী করোনা থেকে মুক্তি? আলেম লেখকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম আল্লামা আহমদ শফী ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ধন্যবাদ সারাদেশের মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য যে সকল শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হলো দেশের সকল মসজিদ মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে আগামীকাল জোহর থেকে
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা কবে এবং কিভাবে?

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা কবে এবং কিভাবে?

আজহার
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়. মিশর

তামীম হুসাইন শাওন: আজ থেকে ১০৮০ বছর আগে ৭ রমজান শিয়া মাযহাবের জুমার নামজের মধ্য দিয়ে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন হয় কিভাবে?

ভৌগলিক অবস্থানে মিশর পৃথিবীর ঠিক মধ্যবর্তী। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থানে। অপরদিকে ভুমধ্যসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল তিউনিসিয়াকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ফাতেমী শিয়া খেলাফত।

তাই মিশরের দিকে তাদের চোখ পড়ে যায়। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সুবিধা লুফে নিতে খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীর শুরুর দিকে মিশরকে শিয়া খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর সংকল্প করে।

৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইসমাঈলী শিয়া ইমাম, চতুর্থ ফাতেমী খলিফা আল-মুঈজ লি-দিনিল্লাহর নির্দেশে সেনাপতি জাওহার সিকিল্লি আব্বাসী শাসকদের পরাজিত করে মিশর দখল করে। মিশরের উপর পরিপূর্ণ শিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

আল আজহার মসজিদের একাংশ

আল-আজহার মসজিদ নির্মান

৩৫৯ হিজরির ২৪ জুমাদাল উলা মোতাবেক ৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৭মে শিয়া মাযহাবের কেন্দ্রীয় মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করে।

শিয়ারা “ফাতেমাতুজ-জাহরা” নামটা কে অত্যন্ত পছন্দ করে তাই তারা “জাহরা”র সাথে মিল রেখে “আজহার” করে-ই নাম রাখে এই মসজিদটির। দু’বছর পর ফাতেমী শিয়া খলিফা “আল-মুঈজ লি-দিনিল্লাহ” তিউনিসিয়া ছেড়ে নতুন বিজিত অঞ্চল মিশরে এসে বর্তমান কায়রুকে ফাতেমী খেলাফতের রাজধানী ঘোষণা করেন।

এরপর ৩৬১হিজরির ৭ই রমজানে “জামিউ’ল-আজহারে” প্রথম বারের মতো জুমার নামাজ আদায়ের পর “আজহার”কে মিশরের কেন্দ্রীয় মসজিদ ও শিয়া মাযহাবের প্রধান বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঘোষণা করেন।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান

১৯০০ সালে আল আজহারের অভ্যন্তর মোহামেডান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা

শিয়া মাযহাবের চিফ জাস্টিস আবু-হানিফা ইবনে মুহাম্মদ আল-কায়রাওয়ানী আজহার মসজিদে সর্বপ্রথম পাঠদানের মাধ্যমে শুরু করে শিয়া মাযহাবের প্রধান বিদ্যাপীঠের গোড়াপত্তন। এরপর ক্রমাগত তার সন্তান ও অন্যান্য শিয়া আলেমরা আজহার মসজিদের পাঠদান অব্যাহত রাখে।

আজহার মসজিদের গোড়াপত্তন হয় শিয়া আকিদার উপর। শিয়া মাযহাব প্রচারের পাশাপাশি জ্যোতির্বিদ্যা, তর্ক শাস্ত্র ইত্যাদি হরেক রকমের শিক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয় এই মসজিদেই।

জমকালো ভাবে চলতে থাকে শিয়া মাজহাব প্রচারণা, মিশরের ভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিনত হয় আহলে-হক সংখ্যাগরিষ্ঠ হয় শিয়া।

৫৬৭ হিজরিতে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবীর হাতে ফাতেমী শিয়াদের পতন

শিয়াদের পতন আইয়ুবীদের উত্থানঃ

৩৬১-৫৬৭হিজরী মোতাবেক (৯৭১-১১৭১খ্রিস্টাব্দ) ১১জন ফাতেমী শিয়া শাসক দুুই শতাব্দি ধরে মিসর শাসন করেন। ৫৬৭ হিজরিতে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবীর হাতে ফাতেমী শিয়াদের পতন হয়।

মিশরের ভূমি থেকে চিরতরে বিলীন হয় শিয়া মতাদর্শ। মুসলিম বিশ্ব পরিচ্ছন্ন হয় শিয়া শাসন ব্যবস্থা থেকে চুরমার হয় ফাতেমী শিয়া খেলাফত।

সালাহুদ্দিন আইয়ুবী মিশরকে আব্বাসী খেলাফতের ছায়া তলে নিয়ে আসেন এবং আব্বাসীয় খেলাফতের প্রাণকেন্দ্র বাগদাদের সাথে সংযুক্ত করে দেন। আব্বাসী খলিফার পক্ষ থেকে তিনি ভূষিত হন সুলতান উপাধিতে, “সুলতান সালাহুদ্দিন আল-আইয়ুবী”।

তিনি মিশরের ক্ষমতা দখল করে অতি দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে মিশরকে শিয়ামুক্ত করেন। তিনি ছিলেন একজন পাক্কা শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। তাই মিশরের শাসন ব্যবস্থা সহ সর্বস্তরে শাফেয়ী মাজহাব অনুসারে ঢেলে সাজান।

“আজহার” মসজিদ ছিল ফাতেমিদের প্রাণকেন্দ্র, শিয়াদের প্রধান বিদ্যাপীঠ, তাদের মতাদর্শের প্রতীক; তাই মিশর থেকে শিয়া মতাদশের্র প্রভাব সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন, নির্মূল করতে বিচক্ষণতার পরিচয় দেন সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবী।

আজহার মসজিদ থেকে মিশরবাসীদের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আল-আজহার’কে বন্ধ ঘোষণা করেন। আইয়ুবী শাসনের সম্পূর্ণ সময়কাল ৫৬৭-৬৪৮ হিজরি (১১৭১-১২৫০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত মোট ৮১বছর আজহার মসজিদে জুমার নামাজ বন্ধ থাকে। এই সময়টায় মিশরের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন ৮জন আইয়ুবী শাসক।

পুনরায় আজহার মসজিদের জুমা জামাত ও পাঠদান চালু

আইয়ুবী শাসন শেষে মিশরে উত্থান হয় মামলুক সালতানাতের। তাদেরও ১৭বছর পার হয়ে যায়। আজহার মসজিদ আপন অবস্থা বহাল থাকে।

১৭বছর পর চতুর্থ মামলুক শাসক, ইসলামী ইতিহাসের এক গৌরবময় উজ্জ্বল নক্ষত্র বিজয়ী সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স ৬৬৫ হিজরিতে ৯৮বছর পর পুনরায় আজহার মসজিদের জুমা জামাত ও পাঠদান ব্যাপকভাবে চালু করেন।

মামলুক শাসনের প্রতিষ্ঠা

এই দফায় শিয়া মাযহাবের অনুকরণে নয়, আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল-জামাআতের মতাদর্শে। শুরু হয় ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার নতুন দিগন্ত। জন্ম নেয় ইসলামী ইতিহাসের গৌরবময় উজ্জ্বল অধ্যায়।

এই মসজিদ ভিত্তিক ক্রমাগত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূবিদ্যা ইত্যাদি জেনারেল বিষয়ের পাঠও ব্যাপকহারে চলতে থাকে।

প্রথমে শিক্ষাব্যবস্থা মসজিদভিত্তিক থাকলেও, পরবর্তীতে ধীরে ধীরে মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আল-আজহারের অসংখ্য ফ্যাকাল্টি। ধর্মীয় ও জেনারেল বিষয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মুসলিম বিশ্বের ১০৮০বছরের সুদৃঢ় সর্ববৃহৎ জ্ঞানের মিনার।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজির হুসাইন জানান, এমন কোনো বিষয় নেই যে বিষয়ে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান নেই। ধর্মীয় ও জেনারেল বিষয়ের বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইউনিভার্সিটি হল এই আল-আজহার ইউনিভার্সিটি।

বতর্মানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯টি ফ্যাকাল্টি রয়েছে, যা এক কথায় অনন্য। প্রতিষ্ঠানটিতে নারী পুরুষ মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ৫ লক্ষ। যার মধ্যে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। শুধু মহিলাদের জন্য এখানে আটটি অনুষদ রয়েছে।

আজ ৭ রমজান বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

এখন পর্যন্ত বীরের মতো শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আলো ছড়াচ্ছে ইসলামের এই উদ্দীপ্ত মিনার। ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত এই বীরের বেশে শির উঁচু করে-ই থাকবে আমাদের প্রাণের জামিয়া।

লেখক- সাংবাদিক, উপস্থাপক, গবেষক

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019-2020.somokalin24.com
Desing & Developed BY NewsRush