শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
শিরোনাম :
জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের করণীয় আমল: করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কওমী মাদরাসা খুলতে আলেমদের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে: নদভী পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত করোনায় মুসলমান নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইকামার মেয়াদ তিনমাস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি সৌহার্দ্য বজায় : ঈদ হোক মোক্ষম করোনা ভাইরাস থেকে আমরা আসলে যে শিক্ষা নিতে পারি -বিল গেটস প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসূল সাঃ যে আমল করতেন এবং তাগিত দিতেন ইতিকাফ রব্বে কারীমের সঙ্গে আলাপনের মহান সুযোগ শবে কদর; সাতাশের রাতই কি সেই দিন? ১২মে দেখা যাবে সুরাইয়া তারকা: মিলবে কী করোনা থেকে মুক্তি? আলেম লেখকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম আল্লামা আহমদ শফী ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ধন্যবাদ সারাদেশের মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য যে সকল শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হলো দেশের সকল মসজিদ
কওমী মাদরাসা খুলতে আলেমদের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে: নদভী

কওমী মাদরাসা খুলতে আলেমদের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে: নদভী

সমকালীন ডেস্ক: কওমী শিক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে কোরবানীর আগেই সীমিত আকারে কওমী মাদরাসাগুলো খুলে দেয়া হোক।। কওমী উলামায়ে কেরামের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

১. রাজস্ব ছাড়া যেমন রাষ্ট্র চলেনা, তেমনি জনগণের সহায়তা ছাড়া কওমী মাদরাসা চলেনা। দীর্ঘ দিন ধরে মাদরাসা বন্ধ। বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টরা সমস্যায় পড়ে আছেন। হেফজখানা মক্তব ও প্রাইভেট মাদরাসা বন্ধ থাকায় ছাত্রদের পড়াশোনার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মহাবিপদে আছেন। সবার বিপদ ও অসুবিধা নেতৃবৃন্দের অনুভব করতে হবে। সহানুভূতি প্রকাশ ও সর্বোচ্চ সহযোগিতার ব্যবস্থা হবে। এসবের তথ্য ও ডাটা সংগ্রহ করে কওমী মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের সাথে যোগাযোগ এবং গভীর সম্পর্কের মাধ্যমে এই কম্যিউনিটির যত্ন ও উন্নয়নই মূলত বেফাক ও অন্যান্য বোর্ডের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠিত বড়ো মাদরাসা ও অধিক রিজিক, তাওফীক ও সম্মানপ্রাপ্ত বুযুর্গ আলেমগণের ধর্মীয় মানবিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব।

২. বড়ো মাদরাসাগুলো রমজানের আয় থেকে বঞ্চিত। শাওয়াল মাসে মাদরাসা শিক্ষার বর্ষ শুরু হয়েছে। কিন্তু পড়ালেখা শুরু করা যায়নি। অনেক ছাত্র পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী হলেও পরিবারের পেছনে সময় দিতে বাধ্য হওয়ায় আর্থিক সংকটে তাদের পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হচ্ছে। কওমী কল্যাণ তহবিল গঠন করে বিপন্ন আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটা উপায় বের করতে হবে। নিজ পরিবার ও বংশধরের মতোই আল্লাহর নবী স. এর এই মেহমানদের জন্যও নেতৃস্থানীয় উলামা মাশায়েখকে চিন্তা অবদান ও ভূমিকা রাখা চাই।

৩. সামনে কোরবানি ঈদ। এখনই সীমিত আকারে মাদরাসা খোলা উচিৎ। কারণ, সারাদেশে মানুষের কোরবানি সহি শুদ্ধ হওয়ার জন্য মাদরাসার সহযোগিতা দরকার। পাড়া মহল্লায় কোরবানিদাতার পাশাপাশি ইমাম,আলেম,মাদরাসা শিক্ষার্থীদের হাতেই পশু জবাই হয়ে থাকে। এর আগে পরে কোরবানির জরুরি মাসআলার জন্যও এই সেবাদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ উপকৃত হয়ে থাকেন।

৪. কোরবানির চামড়া অথবা এর মূল্য মানুষ সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, অনাথ, এতিমদের দিয়ে থাকেন। এমন অবস্থায় থাকা যারা মাদরাসার আশ্রয়ে জীবনযাপন ও লেখাপড়া করে তারা অন্য যে কোনো শ্রেণির চেয়ে কোরবানির চামড়ার বেশি হকদার। গত বছরের দুঃখজনক চামড়া কেলেংকারীর ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবার সরকারকে নিজের সক্ষমতা ও সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।

৫. অতএব, কোরবানির আগেই ঈদের জামাত ও কোরবানির খেদমতের জন্য প্রতিটি মাদরাসার কর্তৃপক্ষকে জরুরি সংখ্যক ছাত্র শিক্ষক নিয়ে মাদরাসা খোলার অনুমতি দেয়া হোক। আর ঈদের পর ভারসাম্যপূর্ণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি অনুসরণ করে চলার শর্তে দেশের সব কওমী মাদরাসা খোলা হোক। এক্ষেত্রে চলমান অনিশ্চয়তা ও সামগ্রিক অচলাবস্থা দূর করতে কওমী উলামায়ে কেরামের সাহসী ভূমিকার বিকল্প দেখছিনা।

৬. এবিষয়ে মাদরাসা বোর্ড ও নেতৃত্বদানকারী কওমী উলামায়ে কেরামের সাহসী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে দীনি ও শরঈ নির্দেশনা এবং কওমী মাদরাসার ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা অনুযায়ী অগ্রসর হতে হবে। সরকারের সাথে যাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তারা এবিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি। এ যোগাযোগের সুবিধাগুলো ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করে কওমী অঙ্গনের প্রয়োজনে ব্যবহার করে ইতিহাসে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

৭. যারা কওমী মাদরাসার ছয় বোর্ডের সম্মিলিত কর্তৃপক্ষ আল হাইয়া, বিশেষ করে বেফাকের নেতৃত্বে আছেন, আশা করি হিফজ করার অতুলনীয় পদ্ধতি জিন্দা রাখা, সব ধরণের কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে যুক্ত আলেম হাফেজ ও সহযোগী কর্মশক্তিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং সীমিত আকারে হলেও অবিলম্বে কওমী মাদরাসা খোলার ব্যাপারে আরো সক্রিয় ভূমিকা রেখে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবেন।

লেখক: চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক,
ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019-2020.somokalin24.com
Desing & Developed BY NewsRush