সোমবার, ১৩ Jul ২০২০, ০১:১৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কওমী মাদরাসা খুলতে আলেমদের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে: নদভী পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত করোনায় মুসলমান নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইকামার মেয়াদ তিনমাস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি সৌহার্দ্য বজায় : ঈদ হোক মোক্ষম করোনা ভাইরাস থেকে আমরা আসলে যে শিক্ষা নিতে পারি -বিল গেটস প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসূল সাঃ যে আমল করতেন এবং তাগিত দিতেন ইতিকাফ রব্বে কারীমের সঙ্গে আলাপনের মহান সুযোগ শবে কদর; সাতাশের রাতই কি সেই দিন? ১২মে দেখা যাবে সুরাইয়া তারকা: মিলবে কী করোনা থেকে মুক্তি? আলেম লেখকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম আল্লামা আহমদ শফী ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ধন্যবাদ সারাদেশের মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য যে সকল শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হলো দেশের সকল মসজিদ মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে আগামীকাল জোহর থেকে
প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসূল সাঃ যে আমল করতেন এবং তাগিত দিতেন

প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসূল সাঃ যে আমল করতেন এবং তাগিত দিতেন

লেখক: তারেক সাঈদ

আমাদের ধারণা, প্রকৃতির কোন গড়মিলের কারনেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি। কিন্তু ইসলাম বলে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকৃতির সৃষ্টি নয়, বরং এ বিপর্যয় মহান আল্লাহর “কুন ফায়াকুন” এর ইশারায় ই হয়ে থাকে। সৃষ্টি ও সৃষ্ট জগতের শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা ও সামাজিক সাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য। এ জন্য প্রয়োজন দূষণমুক্ত প্রকৃতি ও সুশৃঙ্খল সামাজিক পরিবেশ। জলবায়ু ও আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন মানবসভ্যতার জন্য এক অশনিসংকেত। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, বরফ গলে যাওয়া, জলোচ্ছ্বাস এবং ওজোনস্তরের ফুটো বা ফাটল সভ্যতার ধ্বংসের কারণ হতে পারে। সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, জল–স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল। (আল–কোরআন, সুরা-৩০ রুম, আয়াত: ৪১)। সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে বেশি। হাদিসে রসুল (সা.) প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজেও উম্মতের ওপর দুর্যোগের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। তিনি দোয়া করেছেন, যেনো তার উম্মতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে একসঙ্গে ধ্বংস না করা হয়। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে রাসূল (সা.) বিচলিত হয়ে পড়তেন। আল্লাহর শাস্তির ভয় করতেন। বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করতেন এবং অন্যদেরও তা করার নির্দেশ দিতেন। ঝড়-তুফান শুরু হলে তিনি মসজিদে চলে যেতেন। নফল নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি প্রার্থনা করতেন। দুর্যোগের সময় রাসূল সাঃ নিম্ন দোয়া গুলো পড়তেন: জোরে বাতাশ প্রবাহিত হলে যে দোয়া পড়তে হবে ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺧَﻴْﺮَﻫَﺎ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّﻫَﺎ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণটাই কামনাকরি। এবং আপনার নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। আবূ দাউদ ৪/৩২৬, নং ৫০৯৯; ইবন মাজাহ্ ২/১২২৮, নং ৩৭২৭। মেঘের গর্জন হলে যে দোয়া পড়তে হবে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর (রা.) যখন মেঘের গর্জন শুনতেন তখন কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং পবিত্র কোরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন- سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ، والـمَلائِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهِ উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা`দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি অর্থ: পাক-পবিত্র সেই মহান সত্তা- তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেঘের গর্জন শুনলে বা বিদ্যুতের চমক দেখলে সঙ্গে সঙ্গে এই দোয়া করতেন- اللَّهُمَّ لا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ ، وَلا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ ، وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা- তাক্বতুলনা- বিগযাবিকা ওয়া লা-তুহলিকনা- বিআ’জা-বিকা, ওয়া আ’-ফিনা- ক্বাব্লা যা-লিকা। অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে তোমার ক্রোধের কারণে মেরে ফেলো না আর তোমার আযাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না। বরং এর আগেই আমাদেরকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে নাও। (তিরমিজি) ঝড় বা বাতাশ থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়তে হবে- ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺧَﻴْﺮَﻫَﺎ، ﻭَﺧَﻴْﺮَ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻭَﺧَﻴْﺮَ ﻣَﺎ ﺃُﺭْﺳِﻠَﺖْ ﺑِﻪِ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّﻫَﺎ، ﻭَﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻭَﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺃُﺭْﺳِﻠَﺖْ ﺑِﻪِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি’ অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে। (বুখারী, ৪/৭৬, ৩২০৬ ও ৪৮২৯) আল্লাহ তায়ালা আমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে জলোচ্ছ্বাস সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019-2020.somokalin24.com
Desing & Developed BY NewsRush