বাংলা নববর্ষ: অজানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য - সমকালীন২৪ বাংলা নববর্ষ: অজানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য - সমকালীন২৪

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
শিরোনাম :
চকলেটের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণ থার্টি ফার্স্ট নাইট ঈমান বিধ্বংসী বিজাতীয় সংস্কৃতি করোনা ফ্রন্ট লাইনারকে সুস্থ করে বাড়ী পাঠালো বিডি ফাইটার্স করোনা প্রাদুর্ভাবে কাজ করবে ‘টিম বিডি ফাইটার্স’ শিগগিরই ঢাকায় আসছেন এরদোয়ান। নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেছেন আল্লামা আহমদ শফী রহ. ফেরত দেওয়া হবেনা রেজিস্ট্রেশনের অর্থ এবার নিষিদ্ধ হলো টিকটক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ,করলো হুজুর। এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ নিয়ে যা বললেন এবার ছেলের বউকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার জেলখানায় লেখাশোনা করতে চায় মিন্নি মসজিদে বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ ইউএনও’র চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৌদি আরবে এখনও সচল হযরত ওসমানের (রা.) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
বাংলা নববর্ষ: অজানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাংলা নববর্ষ: অজানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য

নববর্ষ

আতাউল্লাহ বাশার: সময় চলে আপন গতিতে । জীবন থেকে যে সময়টুকু হারিয়ে যায় তা আর কখনো ফিরে আসে না । মানুষ তার প্রয়োজনে সময় ও কাল গণনার রীতি আবিষ্কার করে নিয়েছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগে। এটি মানবজাতির আদিমকালের প্রবৃত্তি এবং মানুষের সহজাত সংস্কৃতির অংশ।

পৃথিবীর দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে নানা সন গণনার যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে এর পেছনেও রয়েছে স্বয়ং আল্লাহ পাকের বিশ্বজনীন নিয়ম। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- ‘আকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই বছর গণনার মাস বারটি’। এই সময়কে আল্লাহ তায়ালা আদিকাল থেকেই বারো মাসে বিভক্ত করে দিয়েছেন। যেন মানুষের আনন্দ বেদনা কর্ম ও অর্চনা হিসেব অনুযায়ী করতে পারে ।

পৃথিবীতে বিভিন্ন সন তারিখের গণণা প্রচলিত আছে। আজ আলোচনা করবো বাংলা সন নিয়ে। বাংলা সনের সাথে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্য । বাংলা বারো মাসের প্রথম মাস বৈশাখ। চৈত্রের শেষে বৈশাখের আগমনে প্রায় সব বাঙালির মাঝেই নতুন বছর বরণের নানা প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠান লক্ষ্য করা যায়। আজ পহেলা বৈশাখ

নববর্ষ বরণের এই দিনে বাংলা সনের মাস, সপ্তাহ নামের উৎপত্তি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করছি :

১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নভেম্বর সম্রাট আকবর দ্বিতীয় পানি পথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসন লাভ করেন। তখন থেকেই রাজস্ব আদায়কে সহজ ও তার বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তিনি তারিখ-ই এলাহি সনটির প্রবর্তন করেন। প্রথমে এটি তারিখ-ই এলাহি নামে পরিচিতি লাভ করে এবং পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে তার রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ নতুন এই সালটি তারিখ-ই এলাহি থেকে বঙ্গাব্দে পরিচিতি পায়।

বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের ফলে বাংলায় এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। এর আগে মোগল সম্রাটরা রাজস্ব আদায়ের জন্য হিজরী বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করতেন। কিন্তু এতে কৃষকরা বিপাকে পরতেন। কারণ চন্দ্র ও সৌর বর্ষের মধ্যে ১১ থেকে ১২ দিনের ব্যবধান হয়ে যায় , ফলে দেখা গেছে ৩০ সৌরবর্ষ ৩১ চন্দ্র বর্ষের সমান। অর্থাৎ একবছর ব্যবধান হয়ে যায় । কিন্তু কৃষকরা তখন সৌরবর্ষ অনুযায়ী ফসল সংগ্রহ করলেও চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে রাজস্ব কর আদায় করা হতো।

ফলে এটি কৃষকদের জন্য খুবই বিড়ম্বনার ছিল। তাই আকবর তার রাজত্বের শুরু থেকেই দিন-তারিখ গণনার সুবিধার্থে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক যুগোপযোগী বর্ষপুঞ্জির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেন। এজন্য আকবর জ্যোতির্বিদ ও বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ সীরাজীকে হিজরী বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে তা যুগোপযোগী করে তোলার দায়িত্ব অর্পণ করে। সে সময় বঙ্গে শক বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হতো আর চৈত্র ছিল শক বর্ষের প্রথম মাস।

বিজ্ঞানী সীরাজী ৯৬৩ হিজরী সালের শুরু থেকে বাংলা বর্ষ ৯৬৩ অব্দের সূচনা করেন। ৯৬৩ অব্দের পূর্বে বাংলা বর্ষে আর কোনো সন বিদ্যমান ছিল না বলে জানা যায় । আরবি মুহাররম মাসের সাথে বাংলা বৈশাখ মাসের সামঞ্জস্য থাকায় বাংলা অব্দে চৈত্রের পরিবর্তে বৈশাখকে প্রথম মাস করা হয়। তারিখ-ই এলাহি’র সূচনা থেকে ৪৬৩ বছর পর বাংলা ১৪২৬ ও হিজরী ১৪৪১ বর্ষপঞ্জিতে প্রায় ১৪ বছরের কিছু ঊর্ধ্বে ব্যবধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ হিজরী সাল বাংলা সন থেকে প্রায় ১৪ বছর এগিয়ে। তার কারণ হিজরী বর্ষ হচ্ছে চন্দ্র নির্ভর আর বাংলা বর্ষ হচ্ছে সূর্যনির্ভর। চন্দ্রবর্ষ হয় ৩৫৪ দিনে, আর সৌরবর্ষ হয় ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনে।

বারো মাসের নামকরণ

বঙ্গাব্দের বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে নক্ষত্রমন্ডলের চন্দ্রের আবর্তন বিশেষত তারার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। এই নামসমূহ গৃহীত হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থ ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ থেকে। আর বাংলা সন অন্যান্য সনের মতোই সাত দিনকে গ্রহণ করেছে এবং এ দিনের নামগুলো অন্যান্য সনের মতোই তারকামন্ডলীর ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে।

নববর্ষ মানে কি?

নববর্ষ মানে বাংলা নূতন বছরের আগমন । বাংলা নববর্ষ বাঙালির জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন একটি উৎসব। প্রতিটি বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে উৎসব আমেজ আর ফুরফুরে বাতাসের দিগন্ত ছোঁয়া বসন্ত। আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। জীর্ণ-শীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বানে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। বাঙালির চিরায়ত উৎসবে মেতে ওঠা, প্রাণ খুলে আনন্দে ভেসে যাওয়া, অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় বাঙালির নববর্ষ।

আমাদের দেশে পহেলা বৈশাখ এবং নববর্ষ কেন্দ্রিক যেসব উৎসব আয়োজিত হয় সেগুলোর দিকে একটু নজর দেয়া যাক।

এ উৎসবে প্রধান অনুষঙ্গ বৈশাখী মেলা। মেলায় বিশেষ করে হাতে তৈরী কুটির শিল্পের নানা জিনিস যেমন- চেয়ার, টেবিল, চৌপায়া, বেলাইন, পিঁড়ি, রেহেল, লাঠি, ইঁদুর ধরার ফাঁদ, নারিকেল কুড়ানি, গাঁইল, চেগাইট, খড়ম, পাউডি, ডাল ঘুটনি, ঘুড়ির নাটাই, মাটির তৈরী রকমারি জিনিস, খেলনা, মুড়ি, কৈ, মন্ডা, মিঠাই, জিলাপি, বাতাসা, তিলা ইত্যাদি খাবার দ্রব্য, ঘুড়ি বাঁশি, পুতুল, পাখি ইত্যাদি বেচাকেনার পাশাপাশি এবং হাট-বাজারে বেচাকেনার জিনিসপত্রও বিক্রি হয়।

এসব মেলার মাধ্যমে মূলত দেশীয় দ্রব্যাদি বেচা-কেনার কারণে দেশীয় শিল্প বিশেষ করে কুটির শিল্পের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার হয় এবং দেশীয় চেতনা জাগ্রত হয়।

এসব মেলায় চরক গাছ, নাচ, গান, নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস ইত্যাদির আয়োজনও হয়ে থাকে। এছাড়া সে কালে জুড়ি-বুন্দি জিলাপি রসগোল্লাসহ মুখরোচক খাবারের সমারোহ ছিল বেশ চমৎকার।

হালখাতার প্রচলন যেভাবে:

প্রাচীন রীতির সাথে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবেই জড়িত আজকের শুভ হালখাতা। প্রত্যেক চাষাবাদ চৈত্র মাসের শেষ দিনে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করে দিত। এরপর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ ভূমির মালিকরা তাদের প্রজা সাধারণের জন্য মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতেন। পরবর্তীতে তা ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানীরা সারা বছরের বাকীর খাতা সমাপ্ত করার জন্য পহেলা বৈশাখের দিনে নতুন সাজে বসেন দোকানে। গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করিয়ে শুরু করেন নতুন বছরের ব্যবসার সূচনা। এ উৎসব গুলো সামাজিক রীতির অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে প্রতিটি বাঙালির ঘরে।

এখনো ‘নববর্ষে’ হালখাতার হিড়িক পড়ে প্রত্যেক গ্রামগঞ্জে। তাছাড়া আমানি, রাজপুণ্যাহ, গাজনের গান ইত্যাদি গ্রামীণ অনুষ্ঠান যা আগের দিনে মাস জুড়ে চলতো। আগের দিনে মেলায় প্রদর্শনী হতো বাঁশের বেতের তৈজষ পত্র, নানা জাতের খেলনা সামগ্রী, নারকেল মুড়কিসহ আরো কত কি তার ইয়ত্তা নেই।

মেলার সময় নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা, কুস্তির আসর এমন কি মেলায় ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, বলী খেলা ইত্যাদি বিনোদন অনুষ্ঠান বসতো। তখন মেলা ছিল বাঙালির প্রাণের উৎসব। মেলা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা হতো। আর বিবাহিতা মেয়েরা নাইয়র আসতো বাপের বাড়ি। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই বৈশাখী মেলায় আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠতো। এমনিভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাংলার গ্রামে গ্রামে আনন্দের ধুম পড়ে যেতো।

অপসংস্কৃতির কবলে হারিয়ে যাওয়া তরুণ প্রজন্মের মন হতে হবে শেকড় সন্ধানী । জাতীয় মূল্যবোধ সংস্কৃতি ও নৈতিকতার চেতনা জাগ্রত করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, আমরা সবার উপরে ধর্মকে মূল্যয়ন করি । ধর্ম হলো মুসলমানের সংস্কৃতি আর পহেলা বৈশাখ হলো বাঙালির সংস্কৃতি । সুতরাং যে সমস্ত আচার অনুষ্ঠান ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক হবে তা কখনো সংস্কৃতি নয় বরং অপসংস্কৃতি মনে করতে হবে । বিশেষ করে পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতি পরিহার করতে হবে । তাহলেই আমাদের বাঙালির ‘নববর্ষ’ উদযাপন সার্থক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

One response to “বাংলা নববর্ষ: অজানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য”

  1. […] দিনদিন আধুনিক ও প্রযুক্তিশীল হচ্ছে খুব দ্রুত, […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হোমমেড দেশী রসুনের আচার

অনেকের কাছে রসুনের ঘ্রাণ ভালো লাগে না। তাই শুধু রসুন খেতে পারেন না। তারা রসুনের আচার খেতে পারেন। রসুনের আচারে ভিন্ন রকম একটা ঘ্রাণ থাকায় যেকেউ অনায়েসে মজা করে খেতে পারবেন।




© All rights reserved © 2019-2020.somokalin24.com
Desing & Developed BY NewsRush