সোমবার, ১৩ Jul ২০২০, ০১:২১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কওমী মাদরাসা খুলতে আলেমদের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে: নদভী পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত করোনায় মুসলমান নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইকামার মেয়াদ তিনমাস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি সৌহার্দ্য বজায় : ঈদ হোক মোক্ষম করোনা ভাইরাস থেকে আমরা আসলে যে শিক্ষা নিতে পারি -বিল গেটস প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসূল সাঃ যে আমল করতেন এবং তাগিত দিতেন ইতিকাফ রব্বে কারীমের সঙ্গে আলাপনের মহান সুযোগ শবে কদর; সাতাশের রাতই কি সেই দিন? ১২মে দেখা যাবে সুরাইয়া তারকা: মিলবে কী করোনা থেকে মুক্তি? আলেম লেখকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম আল্লামা আহমদ শফী ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ধন্যবাদ সারাদেশের মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য যে সকল শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হলো দেশের সকল মসজিদ মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে আগামীকাল জোহর থেকে
রোজা রাখলে কি ঘটে আপনার শরীরে? বিজ্ঞান কি বলে?

রোজা রাখলে কি ঘটে আপনার শরীরে? বিজ্ঞান কি বলে?

রোজা

সমকালীন ডেস্ক: প্রতি বছর কোটি কোটি মুসলমান রোজা রাখেন সূর্যোদোয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থেকে।

গত কয়েক বছর ধরে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে রোজা পড়েছে গ্রীষ্মকালে। ফলে এসব দেশের মুসলিমদের রোজা রাখতে হচ্ছে গরমের মধ্যে অনেক দীর্ঘসময় ধরে।

যেমন ধরা যাক নরওয়ের কথা। সেখানে এবছর মুসলিমদের প্রায় ২০ ঘন্টা সময় ধরে রোজা রাখতে হবে।

কিন্তু মুসলিমরা যে একমাস ধরে রোজা রাখেন, সেটা তাদের শরীরে কী প্রভাব ফেলে?

প্রথম কয়েকদিন: সবচেয়ে কষ্টকর

রোজা রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কারণ এটি শরীরে কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

খাবার খাওয়ার পর আট ঘন্টা পার না হওয়া পর্যন্ত মানুষের শরীরে সেই অর্থে উপোস বা রোজার প্রভাব পড়ে না।

আমরা যে খাবার খাই, পাকস্থলীতে তা পুরোপুরি হজম হতে এবং এর পুষ্টি শোষণ করতে অন্তত আট ঘন্টা সময় নেয় শরীর।

যখন এই খাদ্য পুরোপুরি হজম হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীর যকৃৎ এবং মাংসপেশীতে সঞ্চিত থাকে যে গ্লুকোজ, সেটা থেকে শক্তি নেয়ার চেষ্টা করে।

শরীর যখন এই চর্বি খরচ করতে শুরু করে, তা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

তবে যেহেতু রক্তে সুগার বা শর্করার মাত্রা কমে যায়, সে কারণে হয়তো কিছুটা দুর্বল এবং ঝিমুনির ভাব আসতে পারে।

এছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে মাথাব্যাথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে। এ সময়টাতেই আসলে শরীরে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধা লাগে।

৩ হতে ৭ রোজা: এ দিনগুলোতে পানিশূন্যতা থেকে সাবধান

বেশি করে পানি খেতে হবে পানি-শূন্যতা রোধে

প্রথম কয়েকদিনের পর আপনার শরীর যখন রোজায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন শরীরে চর্বি গলে গিয়ে তা রক্তের শর্করায় পরিণত হচ্ছে।

কিন্তু রোজার সময় দিনের বেলায় যেহেতু আপনি কিছুই খেতে বা পান করতে পারছেন না, তাই রোজা ভাঙ্গার পর অবশ্যই আপনাকে সেটার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে।

নইলে আপনি মারাত্মক পানি-শূন্যতায় আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে গরমের দিনে যদি শরীরে ঘাম হয়।

আর যে খাবার আপনি খাবেন, সেটাতেও যথেষ্ট শক্তিদায়ক খাবার থাকতে হবে। যেমন কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা এবং চর্বি।

একটা ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সব ধরণের পুষ্টি, প্রোটিন বা আমিষ, লবণ এবং পানি থাকবে।

সব ধরণের খাবার রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়

৮ হতে ১৫ রোজা: এ কদিনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে শরীর

এই পর্যায়ে এসে আপনি নিশ্চয়ই অনুভব করতে পারছেন যে আপনার শরীর-মন ভালো লাগছে, কারণ রোজার সঙ্গে আপনার শরীর মানিয়ে নিতে শুরু করেছে।

ক্যামব্রিজের এডেনব্রুকস হাসপাতালের ‘অ্যানেসথেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিনের’ কনসালট্যান্ট ড: রাজিন মাহরুফ বলেন, এর অন্যান্য সুফলও আছে।

“সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাই এবং এর ফলে আমাদের শরীর অন্য অনেক কাজ ঠিকমত করতে পারে না, যেমন ধরুণ শরীর নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে।”

“কিন্তু রোজার সময় যেহেতু আমরা উপোস থাকছি, তাই শরীর তখন অন্যান্য কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

কাজেই রোজা কিন্তু শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এটি শরীরের ক্ষত সারিয়ে তোলা বা সংক্রমণ রোধে সাহায্য করতে পারে।”

১৬ হতে ৩০ রোজা: এ দিনগুলি শরীর ভারমুক্ত

রমজান মাসের শেষার্ধে আপনার শরীর কিন্তু পুরোপুরি রোজার সঙ্গে মানিয়ে নেবে।

আপনার শরীরের পাচকতন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি এবং দেহত্বক এখন এক ধরণের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাবে। সেখানে থেকে সব দূষিত বস্তু বেরিয়ে আপনার শরীর যেন শুদ্ধ হয়ে উঠবে।

ড: মাহরুফ বলছেন , “এসময় আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পাবে। আপনার স্মৃতি এবং মনোযোগের উন্নতি হবে এবং আপনি যেন শরীরে অনেক শক্তি পাবেন”।

“শরীরের শক্তি জোগানোর জন্য আপনার আমিষের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক হবে না। যখন আপনার শরীর ‘ক্ষুধার্ত’ থাকছে তখন এটি শক্তির জন্য দেহের মাংসপেশীকে ব্যবহার করছে। এবং এটি ঘটে যখন একটানা বহুদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনি উপোস থাকছেন বা রোজা রাখছেন।”

“যেহেতু রোজার সময় কেবল দিনের বেলাতেই আপনাকে না খেয়ে থাকতে হয়, তাই আমাদের শরীরের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট খাবার এবং তরল বা পানীয় গ্রহণের সুযোগ থাকছে রোজা ভাঙ্গার পর।

এটি আমাদের মাংসপেশীকে রক্ষা করছে এবং একই সঙ্গে আমাদের আবার ওজন কমাতেও সাহায্য করছে।”

তাহলে রোজা রাখা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?ড: রাজেন মাহরুফ

ড: মাহরুফ বলেন, অবশ্যই, তবে একটা ব্যাপার আছে।

“রোজা রাখা শরীরের জন্য ভালো কারণ আমরা কী খাই এবং কখন খাই সেটার ওপর আমাদের মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। কিন্তু একমাসের রোজা রাখা হয়তো ভালো। কিন্তু একটানা রোজা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া যাবে না।

“শরীরের ওজন কমানোর জন্য একটানা রোজা রাখা কোন উপায় হতে পারে না। কারণ একটা সময় আপনার শরীর চর্বি গলিয়ে তা শক্তিতে পরিণত করার কাজ বন্ধ করে দেবে। তখন এটি শক্তির জন্য নির্ভর করবে মাংসপেশীর ওপর। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কারণ আপনার শরীর তখন ক্ষুধায় ভুগবে।”

ড: মাহরুফের পরামর্শ হচ্ছে রমজান মাসের পর মাঝে মধ্যে অন্যধরণের উপোস করা যেতে পারে। যেমন ৫:২ ডায়েট (পাঁচদিন কম খেয়ে দুদিন ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করা)। যেখানে কয়েকদিন রোজা রেখে আবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাওয়া-দাওয়া করা যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019-2020.somokalin24.com
Desing & Developed BY NewsRush