সোমবার, ১৩ Jul ২০২০, ০১:২৫ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কওমী মাদরাসা খুলতে আলেমদের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে: নদভী পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত করোনায় মুসলমান নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ইকামার মেয়াদ তিনমাস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি সৌহার্দ্য বজায় : ঈদ হোক মোক্ষম করোনা ভাইরাস থেকে আমরা আসলে যে শিক্ষা নিতে পারি -বিল গেটস প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসূল সাঃ যে আমল করতেন এবং তাগিত দিতেন ইতিকাফ রব্বে কারীমের সঙ্গে আলাপনের মহান সুযোগ শবে কদর; সাতাশের রাতই কি সেই দিন? ১২মে দেখা যাবে সুরাইয়া তারকা: মিলবে কী করোনা থেকে মুক্তি? আলেম লেখকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম আল্লামা আহমদ শফী ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের ধন্যবাদ সারাদেশের মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য যে সকল শর্তসাপেক্ষে খুলে দেয়া হলো দেশের সকল মসজিদ মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে আগামীকাল জোহর থেকে
১২মে দেখা যাবে সুরাইয়া তারকা: মিলবে কী করোনা থেকে মুক্তি?

১২মে দেখা যাবে সুরাইয়া তারকা: মিলবে কী করোনা থেকে মুক্তি?

সুরাইয়া

মুফতী আতাউল্লাহ বাশার: সুরাইয়া তারকা দেখা যাবে ১২ মে। সেদিন বিশ্ব মুক্ত হবে করোনাভাইরাস নামক ভয়ঙ্কর মহামারি থেকে। এই আত্ববিশ্বকে পুজি করে অব্যাহতির দিন গুনছে কোটি কোটি প্রাণ। আসলেই কি মুক্তি মিলবে? চলুন বিজ্ঞান ও ইসলামের আলোকে বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।

এদেশের মানুষ ধর্ম প্রিয়, ইসলাম প্রিয়। ধর্মের দোহাই দিয়ে কিছু বললে তা জনমনে ঐশী বাণীর মতো আস্থা কুঁড়ায়। স্মরল বিশ্বাসী এ মানুষগুলো আবার বড়ো জেদি প্রকৃতির। কোন বিশ্বাস অন্তরে একবার জায়গা করে নিলে বিপরীত মুখী হাজারো ওয়াজ নসীহত তাদের কাছে নিষ্ক্রিয়।

এমনই এক বিশ্বাসের জন্ম দিলো ক’দিন ধরে আলোচিত সমালোচিত সুরাইয়া তারকা সম্বন্ধীয় একটি বক্তব্য। করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে সারা বিশ্ব যখন ক্ষতিগ্রস্ত ও দিশেহারা; ঠিক এ সময়ে আমেরিকা থেকে এক আলেমের হাদীস ভিত্তিক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে, মানুষ যেনো বিপদ মুক্ত ঊষা রাঙ্গা নুতন দিগন্তের খুঁজ পেলো ।

তিনি তাঁর বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে ১২মে পৃথিবী থেকে করোনা ভাইরাস উঠে যাবে এবং এর স্বপক্ষে কয়েকটি হাদীসও উল্লেখ করেছেন । যে কারণে অধিকাংশ মানুষ-ই নিশ্চিত জ্ঞান হিসেবে বিশ্বাস করেছেন এবং ১২মে পর্যন্ত দিন গুনছেন ।

আমাদের দেশে যেমন বসন্ত ঋতু এলে মাঠ ঘাট সবুজাভ হয়ে ওঠে এবং পত্রপল্লব ভরে ওঠে নুতন পাতা ও ফুলে। তেমনি আরবে মে মাসের ১২ তারিখের পরে ফসল কাটা এবং বিক্রির উপযুক্ত সময়। এসময় আরবে তাপ বাড়তে থাকায় ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে পারে।

১২মে আকাশে সুরাইয়া তারকার প্রভাবে রোগব্যাধি বিদায় নেবে, বিষয়টি কি সত্যি? :

হোদায়বিয়া সন্ধির দিন যখন বৃষ্টি হলো তখন রাসূল সা. বললেন, আজ কিছু মানুষের ঈমান বৃদ্ধি পেয়েছে আর কিছু মানুষ বেঈমান হয়ে গেছে। যারা বলবে যে আল্লাহ আমাদের বৃষ্টি দিয়েছেন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পাবে আর যারা বলবে যে তারকার প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে তাদের কুফরী বৃদ্ধি পাবে।

এখন প্রশ্ন হয় তাহলে সুরাইয়া তারকা দ্বারা নবীজী সা. কী বুঝিয়েছেন? সমাধানটি জানার আগে সুরাইয়া তারকা সম্বলিত দু-একটি হাদীস জেনে নিন ।

‘উসমান ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনে সুরাক্বাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমারকে ফসল বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, রাসূল সা. ‘আ-হা’ যাওয়ার আগে ফসল (গাছের ফল) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম এটি কতদিন থাকবে? তিনি বললেন, সুরাইয়া উদিত না হওয়া পর্যন্ত।’ (মুসনাদে আহমাদ-৫১০৫)

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, ‘যখন তারাটি উঠবে, তখন প্রতিটি শহরবাসী থেকে রোগব্যাধি উঠিয়ে নেয়া হবে’। এ হাদীসকে দূর্বল হিসেবে অভিহিত করেছেন বেশিরভাগ মুহাদ্দিস। যা কোন বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত হাদীসের ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে হাদীসের ইমামরা আরো কিছু হাদীস খুঁজে পান।

যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন, ‘মহানবী সা. ব্যাধি চলে যাওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন’। বর্ণনাকারী উসমান বলেন, আমি ইবনে উমারের কাছে জিজ্ঞেস করলাম, কখন যাবে সেই ব্যাধি। তিনি বললেন, ওটা সুরাইয়া তারকাপুঞ্জ উদয়ের পর’।

আরেক হাদীসে হযরত জাবের (রা.) বলেন যে, ‘রাসূল সা. ফল পাকার আগে (অর্থাৎ খারাপ আবহাওয়া হতে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।’

ইবনে উমার (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূল (স.) খেজুর লাল বা হলুদ রং ধারণের পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (কারণ ফল যখন লাল বা হলুদ রং ধারণ করে তখন সে ফলের খারাপ আবহাওয়া হতে নিরাপদ থাকা নিশ্চিত হয়ে যায়)। অনুরূপভাবে শীষটি যতক্ষণ না সাদা হয়ে যাবে এবং খারাপ আবহাওয়া হতে নিরাপদ না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ধান-গম সহ যাবতীয় ফসল ক্রেতা বিক্রেতাকে বিক্রি করতে এবং ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।’

এ ধরণের আরো বহু হাদীস আছে, যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে রাসূল সা. ওই হাদীসগুলো মূলত আরবদের ফলফলাদি বিশেষত খেজুর সম্বন্ধে বলেছেন।

সব মুহাদ্দিসই বলেছেন এ হাদীসটগুলো ফলফলাদির উত্তম মৌসুম সম্পর্কিত । সুতরাং তা করোনা বা মানুষের রোগব্যাধির সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না।

‘সুরাইয়া’ কাকে বলে?

এটি একটি নক্ষত্রের নাম। সাতটি তারার সমন্নয়ে গঠিত একটি সমষ্টির নাম হলো ‘সুরাইয়া’। ছয়টি প্রকশিত এবং একটি অপ্রকাশিত। কোনো কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতে সাতের অধিকের সমষ্টিকে সুরাইয়া বলে। এটি মূলত সারা বছরই উদিত হয়। রাতের আঁধারে আমরা আকাশে তাকালেই তারকাগুলো দৃষ্টি গোচর হয় ।

হাদীস বিশারদগণ বলেছেন, আরব পঞ্জিকায় শীতকাল শুরু হয় ইংরেজির অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে। ওই সময়ে সুরাইয়া নামের এই নক্ষত্রপুঞ্জ সন্ধ্যার পর উদয় হতে থাকে। রাত গভীর হলে এই তারা খুব সহজে দেখা যায়। এভাবে আস্তে আস্তে সূর্য তার উদয়স্থল পরিবর্তন করে উত্তর গোলার্ধের দিকে সরতে থাকে, ফলে গাছে গাছে অংকুরোদ্গম হতে থাকে। আর ভাইরাসের সংক্রমনও বাড়তে থাকে সমান্তরালে।

এভাবে চলতে চলতে এপ্রিল আসার পর সূর্য আরব অঞ্চলে মোটামুটি জোর পায়। সুরাইয়া উদয় হয় তখন শেষ রাতে। এভাবে মে মাসের ১২ তারিখের দিকে তার উদয় আসে ফজরের পর।

এই সময় আরব দেশে মারাত্মক গরম শুরু হয়। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে শুরু হয় উষ্ণতার আবহ। ফলে পরিবেশ হয়ে ওঠে অনেকটা ভাইরাস মুক্ত। যা প্রত্যেক বছরেই হয়ে থাকে।

এই হাদীসে সেটাই বোঝানো হয়েছে। আর রাসূল সা. মে মাসে সুরাইয়ার উদয়কে ফসল সুন্দর হবার ক্ষণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ঐ সময়টা খেজুর বিক্রির জন্য উপযুক্ত সময়, কারণ খেজুরে কোন ব্যাধি ও শষ্যে কোন পোকা থাকেনা।

আমাদের দেশে যেমন বসন্ত ঋতু এলে মাঠ ঘাট সবুজাভ হয়ে ওঠে এবং পত্রপল্লব ভরে ওঠে নুতন পাতা ও ফুলে। কিন্তু কোন মুমিন একথা মনে করে না যে বসন্তের প্রভাবে এগুলো হয়েছে। বরং গাছে গাছে ফুল পাতা জেগে উঠার জন্যে বসন্তই উপযুক্ত সময়।

এখন সর্বপরি কথা হলো আমাদের দেশেও যেহেতু ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই আশা রাখতে পারি আল্লাহ চাইলে এ দিন গুলো করোনা ভাইরাস ধ্বংস হওয়ার উপযুক্ত সময়। মে মাসের ১২ তারিখেই ধ্বংস হবে এটা নিশ্চিত নয় এবং এটা হাদীসের ভাষ্যও নয়।

হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে নিশ্চিত করে বললে (আল্লাহ না করুন) যদি তা না ঘটে, তখন ইসলাম বিদ্বেষীরা আঙ্গুল দেখিয়ে বলবে, ‘তোমাদের নবীর কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

গত ক’দিন আগে এক বক্তা বললেন মুসলমানের করোনা হবে না, যদি হয় তাহলে কোরআন মিথ্যা। পরে দেখা গেল অনেক মুসলমানেরই হয়েছে, তাই বলে কি কোরআন মিথ্যা? নিশ্চয়ই না।

কিন্তু একটি হিন্দু পেইজ এই বক্তব্য দিয়ে আমাদের ধর্মের উপর প্রশ্ন তুলেছে। তাই লাগামহীন কথা বার্তা বলে নাস্তিক, বাম, মুর্তাদ ও বিধর্মীদের হাতে অপবাদের অস্ত্র তুলে দিবো না।

সংবাদটি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019-2020.somokalin24.com
Desing & Developed BY NewsRush